রাতের অন্ধকার যেন ধীরে ধীরে নগরীকে গ্রাস করে নেয়—একটি বিশাল কম্বলের মতো ঢেকে ফেলে তার সমস্ত ব্যস্ততা। তারার মৃদু আলোয় ছাদ, বাড়িঘর, অলিগলি সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে ঘুমিয়ে থাকে। কোথাও ক্লান্ত শরীরের ভারী নিঃশ্বাস, কোথাও অসহ্য গরমে কিংবা সারাদিনের পরিশ্রমে অবসন্ন মানুষের গভীর তন্দ্রা—সব মিলিয়ে রাতের শহর ধারণ করে এক ভিন্ন রূপ।
বাড়ির আঙিনা, ছাদ, গলি কিংবা রাস্তার পাশে খোলা বিছানায় ঘুমিয়ে থাকে শ্রমজীবী মানুষ। দিনের কঠোর পরিশ্রমে ক্লান্ত সেই মানুষগুলোর শরীর নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকে রাতের নীরবতায়।
তবুও এই গভীর রাতে শহর পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়ে না। দু-একজন মানুষ নির্জন পথে হাত ধরাধরি করে হাঁটে, গল্প করে; কারো হাতে দেখা যায় বেলি ফুলের মালা। ফুলের মিষ্টি সুবাস কিছুক্ষণ আশপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, তারপর রাতের গরমে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
রাতের নিস্তব্ধ শহরের অন্য এক চিত্রও দেখা যায়—ক্ষুধার সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো কুকুর, খাবারের আশায় পথের বর্জ্য খুঁজে বেড়ায়। সরু গলি কিংবা দোকানের নিচের অন্ধকার ফাঁক থেকে বেরিয়ে আসে বিড়াল; ফেলে দেওয়া মাটির গ্লাসে লেগে থাকা দুধের শেষ স্বাদটুকু খুঁজে নেয়। এভাবেই ঘুমন্ত নগরীর আড়ালে চলতে থাকে আরেক জীবনের নীরব গল্প।