নমস উপাখ্যান’ একটি ঐতিহাসিক ও সমাজবাস্তবতাভিত্তিক উপন্যাস, যেখানে নমশূদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, সুখ-দুঃখ, আশা-স্বপ্ন এবং দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি উঠে এসেছে। এটি লেখকের পূর্ববর্তী উপন্যাস ‘নমসপুত্র’-এর ধারাবাহিকতায় রচিত এবং নিঃসন্দেহে সেই উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব।
একসময় নমশূদ্ররা ছিল সমৃদ্ধ ‘নমজাতি’। ইতিহাসের নানা নির্মম পরিবর্তনে কীভাবে তারা ‘নমশূদ্র’ পরিচয়ে পরিণত হলো এবং অশিক্ষার গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো—সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ‘নমস উপাখ্যান’-এ উঠে এসেছে তাদের শিক্ষা ও আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম।
উপন্যাসে চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নমশূদ্র সম্প্রদায়ের শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠার পাশাপাশি উঠে এসেছে উনসত্তরের আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ, শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেওয়া, স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে চরম আর্থিক সংকটে পড়া এবং পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে ভিটেমাটি ও দেশ ছেড়ে অনেকের চলে যাওয়ার বেদনাময় বাস্তবতাও এতে স্থান পেয়েছে।
নমশূদ্র জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, পরিচয়, সামাজিক পরিবর্তন এবং জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে রচিত ‘নমস উপাখ্যান’ তাই শুধু একটি উপন্যাস নয়; এটি একটি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ পথচলা, বেঁচে থাকা, স্বপ্ন ও সংগ্রামের সাহিত্যিক দলিল।