একটি বিয়ের আসরে পাত্র প্রশ্ন করে, “তোমাকে কি খৎনা করানো হয়েছে?”—প্রশ্নটি শুধু এক নারীর উদ্দেশে নয়, বরং একটি সমাজব্যবস্থা, সংস্কার ও নির্মম বাস্তবতার প্রতীক।
যেখানে নারী-খৎনার মতো অমানবিক প্রথা সামাজিক স্বীকৃতি পায়, যেখানে পুরুষের অবাধ যৌনাচার উপেক্ষিত হলেও নববধূর সতীত্বই হয়ে ওঠে সম্মান ও জীবনের একমাত্র মানদণ্ড—সেখানে বাসর রাতের পর রক্তাক্ত চাদরই যেন নারীর ভাগ্য নির্ধারণ করে। সেই প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে তার জন্য অপেক্ষা করে অপমান, নির্যাতন কিংবা আরও ভয়াবহ পরিণতি।
হ্যান্ডকাফে বন্দি কিশোরী অমাল—দুই পায়ে লোহার শিকল। মাতৃত্বের মুহূর্ত শেষ হতেই তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থানে। অভিযোগ—ব্যভিচার। শাস্তি—পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু।
অন্যদিকে কিশোরী নাদিয়া নিজের পরিবারের সুইমিং পুলেই ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। নীল জলের নিচে চিরতরে হারিয়ে যায় তার স্বপ্ন, তার হাসি, তার জীবন।
এই সব ঘটনা নিছক কল্পকাহিনি নয়; এগুলো এক কঠোর বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। জিন শ্যাসনের ‘প্রিন্সেস’ পাঠককে উন্মোচন করে আরব বিশ্বের রাজপ্রাসাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নারীর জীবন, নিপীড়ন, বৈষম্য এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার এক বিস্ময়কর ও হৃদয়বিদারক অধ্যায়।
অনুবাদক: আন্দালিব রাশদী, Andaliv rashdi