আমি কখনোই আমার মায়ের মতো হতে চাইনি। অথচ আজ তিনি আর নেই। তাঁর কম্পিত দেহ থেকে উঠে আসা আগুনের শিখার দিকে আমি নির্বাক তাকিয়ে আছি। চোখে কোনো জল নেই—চোখ যেন শুকিয়ে গেছে, শরীর ভারী হয়ে এসেছে, আর নিজের অস্তিত্বটুকুও যেন অর্ধমৃত মনে হচ্ছে।
চিতার চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আত্মীয়স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। সময় পেরিয়ে যখন দেহভস্ম শীতল হলো, তখন আমার কাকা ও আমি ঘাটে গিয়ে সেই ভস্ম সংগ্রহ করলাম। চারপাশে সাদা পোশাকে আবৃত মানুষ—কারও চোখে জল, কারও মুখে গভীর শোকের ছাপ। কেউ বেঞ্চে বসে আছে, কেউ দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে, সবাই যেন মৃত্যুর নীরবতার অংশ হয়ে গেছে।
চারদিকে অসংখ্য মানুষের ভিড়। কোথাও মৃতদেহের সামনে স্বজনদের আহাজারি, কোথাও চিতায় জ্বলতে থাকা দেহকে ঘিরে নীরব অপেক্ষা। ধোঁয়ায় ভারী হয়ে আছে বাতাস; সেই বাতাসে মিশে আছে পোড়া মাংসের তীব্র গন্ধ। এই স্থান দীর্ঘক্ষণ থাকার মতো নয়, তবু মনে হলো আমি যেন এখান থেকে নড়তেই পারছি না।
অবচেতনভাবে তাকিয়ে আছি ছোট্ট এক স্তূপ ভস্মের দিকে—যেখানে মিশে গেছে আমার প্রিয় মানুষের শেষ চিহ্ন। পাশেই নির্মিত কংক্রিটের ফলকে লেখা আছে—এখানে জনৈক শেঠ রামকৃষ্ণ ডালমিয়ার দাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রেমময়ী বিধবা স্ত্রী, ভাই ও সন্তানরা একটি স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করেছেন।
মৃত্যুর এই নিস্তব্ধ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে জীবন, সম্পর্ক ও হারানোর গভীর সত্য যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অনুবাদক: আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, Anwar Hossain Manju