কায়দা করে বেঁচে থাকো (হার্ডকভার)\r\nআমি নিজে কিন্তু কখনো কবিতা লিখিনি। বলা যায় সাহস করিনি লিখতে। মনে হয়েছে কাজটা খুব কঠিন, আমার জন্য দুঃসাধ্য। ছন্দের সমস্যা আছে, মুক্ত ছন্দে বা গদ্যের আকারে লিখলেও ছন্দস্পন্দ দরকার হবে, যেটা অনেকটা গানের মতো; গানের গুণ না থাকলে কোনো রচনাই কবিতা হয় না। প্রয়োজন হয় গভীর অনুভূতির, নতুন চিন্তার। চিন্তার ওই আবশ্যকতার বিষয়টা অনেকেই ভাবেন না। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো কবিতাই সার্থক হয়নি যার ভেতর চিন্তা নেই। আর কেবল এসব জিনিস একত্র করতে পারলেই যে কবিতা সৃষ্টি হয়ে যাবে তা নয়; এদের সবগুলো মিলে একটি প্রাণবন্ত নতুন জিনিস দাঁড়িয়ে গেলে তবেই বলা যাবে, হ্যাঁ, কবিতা পাওয়া গেছে।\r\nঅনেকেই কবিতা লেখেন। প্রচুর কবিতার বই অহরহ, হরহামেশা বের হচ্ছে; কাব্য যশের এই প্রার্থীদের চেষ্টা দেখে মনে হয় তারা খুবই সাহসী। তাদের অধিকাংশেরই সাহসের প্রশংসা করা যায়, কবিতার প্রশংসাটা বাদ দিয়ে। ইমরান মাহফুজের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকম। তার সাহস এবং রচনা উভয়েই সাহসের দাবী রাখে। দেখতে পাচ্ছি যে তার রচনাগুলোতে কবিতার জন্য অত্যাবশ্যকীয় গুণগুলো উপস্থিত রয়েছে।\r\nইমরানের প্রথম কবিতার বই দীর্ঘস্থায়ী শোকসভা। সেখানে অনুভূতি ছিল গভীর। সেটি মূলত: বেদনার। বেদনার সেই গভীর অনুভূতি তার নতুন বই কায়দা করে বেঁচে থাকো'তেও উপস্থিত। তবে এখানে যুক্ত হয়েছে রাগ। রাগটা প্রথম বইতেও ছিল, কিন্তু এখানে রাগ কিছুটা বেশী। আসলে সব রাগের পেছনেই অনুরাগ থাকে। অনুরাগ ভালোর প্রতি, আর সেই ভালো বিপন্ন হয়েছে দেখতে পেলেই রাগ উৎপন্ন হয়। ইমরান মাহফুজ চেয়েছে সুস্থ জীবন, যা আমরা সবাই চাই। কিন্তু ওই ভালোটা সে পায়নি, পাচ্ছে না। সে জন্যই তার রাগ। ওই রাগ-অনুরাগ তো আমাদের সবারই। নিজের কথা বলতে বসে এই কবি আমাদের সকলের কথাই বলেছে। শোককে সে ক্রোধে পরিণত করেছে, যেটা খুবই দরকার।\r\nতার রচনায় পানের স্পন্দন ও অনুভূতির গভীরতা রয়েছে, সঙ্গে আছে কবিতার জন্য যা অপরিহার্য সেই চিন্তা। চিন্তা করে লিখেছে, এবং চিন্তা করে দেখেছে যে জগৎটা অসঙ্গতিতে ভরপুর। অসঙ্গতি আগেও ছিল; কিন্তু তা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। অসঙ্গতিগুলো এখন বিশেষ ভাবে অসহ্য, কেননা সভ্যতা তো এগিয়েছে এবং আমাদের এই পশ্চাৎপদ দেশেও আমরা জাজ্বল্যমান নানা উন্নতি সাধন করে ফেলেছি। কিন্তু ওই যে ভয়াবহ পুরাতন সত্য সেটা মিথ্যা হয়ে তো যায়ইনি বরং আরও উৎকট রূপে বিকশিত ও প্রকাশিত হয়েছে। সত্যটি হলো এই যে উন্নতির বৃদ্ধি একা আসে না, সঙ্গে থাকে বৈষম্য। ইমরানের চিন্তা-দুশ্চিন্তার ভেতরে রয়েছে বৈষম্য বৃদ্ধির ওই ঘটনাও। তার চিন্তাধারা স্বচ্ছ।\r\nইমরানের জানা আছে যে মূল ব্যাপারটা সামাজিক, কিন্তু এর কর্তা হচ্ছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র নিজেকে আড়াল করে রাখে। মনে হয় সে নিরপেক্ষ। কিন্তু রাষ্ট্র আসলে সুবিধাভোগীদের দাসানুদাস। তার যত আইন-কানুন সবই সুবিধা করে দেয় সৌভাগ্যবানদের, বঞ্চনা আনে যারা অসফল তাদের জন্য। আইনের শাসন মানে হলো বিত্তবানদের শাসন শাসন। তার বাইরে কিছু নেই। রাষ্ট্রকে ইমরান টেনে সামনে নিয়ে এসেছে। তাকে ধিক্কার দিচ্ছে। আর আছে শ্রেণী। অনেকেই অনেক কথা বলেন, কিন্তু সাধারণত বলেন শ্রেণীকে বাদ দিয়ে, অনেক সময় আড়াল করে। শ্রেণী কী বস্তু ইমরান মাহফুজ জানে এবং সেটা সে আমাদেরকে জানাচ্ছে তার কবিতাগুলোর মধ্য দিয়ে। বর্তমান সমাজে মানুষের টিকে থাকাটাই কঠিন; বেঁচে থাকা তো অবশ্যই। বাঁচার জন্য নানান কায়দা-কৌশল প্রয়োগের দরকার পড়ে। ইমরান সে-কথাটাই বলছে তার লেখার মধ্য দিয়ে।
জুম করুন
কায়দা করে বেঁচে থাকো (হার্ডকভার)
৳১৪০৳২০০৩০% ছাড়
সাশ্রয় ৳৬০
স্টকে নেই
১
- সম্ভাব্য ডেলিভারি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- সারা বাংলাদেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি
- বই ক্ষতিগ্রস্ত হলে ৭ দিনের মধ্যে ফেরত
বইয়ের বিবরণ
- প্রকাশনী
- দুয়ার প্রকাশনী
- সংস্করণ
- 5th Edition, 2024
- পৃষ্ঠা
- ৮০
- ভাষা
- বাংলা
- পণ্য কোড
- BOI-GOLPO-Q4N1ENRB
বই পরিচিতি
লেখক পরিচিতি
ইমরান মাহফুজ
০টি বই
প্রকাশনী পরিচিতি
দুয়ার প্রকাশনী
০টি বই
সব রিভিউ
০
০টি রিভিউর ভিত্তিতে
- ৫০
- ৪০
- ৩০
- ২০
- ১০
এখনো কোনো রিভিউ নেই
আপনার কেনা বইয়ের রিভিউ এখানে দেখা যাবে।
সম্পর্কিত বই
Unique ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শর্ট সাজেশন (৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি)
মোঃ আনিসুর রহমান শ্রাবণ, মোঃ আসলাম সাগর
৳১২০৳১৩০
স্টকে নেই
unique নৈতিকতা,মুল্যবোধ ও সুশাসন শর্ট সাজেশন সংক্ষিপ্ত কিন্তু পুর্ণাঙ্গ (৫০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি)
মোঃ আনিসুর রহমান শ্রাবণ, মোঃ আসলাম সাগর
৳১০০৳২০০
স্টকে নেই
এই প্রকাশনীর আরও বই
দুয়ার প্রকাশনী